স্বাগতম

সবার জন্য উন্মুক্ত পেইজ ভিজিট করার জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। *** শিক্ষার কোন বয়স নাই, জানার কোন শেষ নাই। *** বিঃদ্র ( যে সকল ব্লগ বা ওয়েবসাইট এর লেখা কোন অনুমতি ছাড়া কপি করে এখানে পোষ্ট করেছি, যদি কারো কোনো অভিযোগ থাকে দয়া করে জানাবেন। E-mail: nchafa10@gmail.com, ভালো লাগলে আবার আসবেন।***ধন্যবাদ***

চুরি হওয়ার ভয়ে মসজিদের দরজা তালা বদ্ধ করে রাখা ঠিক কি না

মুসলিম জাহানের মসজিদকে আল্লাহতায়ালার ঘর বলা হয়। এখানে উঁচু নিচু, ধনী গরিবের কোন পার্থক্য নাই। সবাই এক আল্লাহর ইবাদত করার জন্য মসজিদে আসে। সবাই সমান এক নামে পরিচিতি মুসল্লি। যে আগে আসে, সে সামনে সারীতে বসে কোন ধরাবাঁধা নেই। মসজিদ আল্লাহ্‌র ঘর,এখানে বসে আল্লাহতায়ালাকে খুশি করার উদ্দেশ্য আল্লাহ্‌র গুনগান নামাজ, জিকির করা হয়। নামাজ ও জিকির পরিপন্থী কোনো কিছু করার জায়েজ নেই। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই মসজিদগুলো আল্লাহর জন্য। সুতরাং আল্লাহর সঙ্গে কাউকে ডেকো না। ’ (সুরা : জিন, আয়াত : ১৮)

উত্তম রুপে ইবাদাত করার একমাত্র স্থান মসজিদ। যখন খুশি, যে কোন সময় মসজিদে ইবাদত করা যায় কিন্তু বর্তমান মসজিদ এর রূপ ও গুনের পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। যা মুসলিম জাহানের জন্য কাম্য নয়।

যেমন আগে এলাকায় সাধারন মসজিদ ছিল। ছিলনা সিলিং ফ্যান তেমন দামি কিছু । তাই চুরি যাওয়ার ভয়ও ছিলনা। বলতে গেলে সারাদিনই মসজিদ খোলা থাকতো। মুসল্লিরা যখন তখন এসে নামাজ, জিকির ইবাদত ও কোরআন পরতে পারত। গরীব মানুষেরা একটু গা এলিয়ে জেরাতে পারতেন।
আর এখন, বর্তমানে শুরু হলো মসজিদের উন্নয়ন কর্মসূচী। গরমে মানুষের কষ্ট হয় তাই মুসল্লিদের জন্য এসি কেনা প্রয়োজন। তাই মিম্বর থেকে হুজুরের আবু-বকর (রা), ওমর (রা) এর দানের ইমোশনাল কাহিনী দিয়ে টাকা কালেকশন। এর সাথে ইমাম সাহেবের কথার তাল মিলিয়ে মসজিদ কমিটির প্রধানের বানী। দেন ভাই দেন, যে যা পারেন দেন। আখিরাতের জন্য দেন। আরও কত কি!!!
মাশাল্লাহ, এভাবে পুরো মসজিদ এখন দামি টাইলস, এমনকি বাইরের ওয়াল পর্যন্ত কারুকার্যে ভরা। দামি দামি কার্পেট। তারপর আবার ২ পাশে সারি সারি চেয়ার তো আছেই, আগে মসজিদে ২-৩ জন দ্বায়ীত্ব নিলেই হয়ে যেতো, আর এখন মসজিদ কমিটিও অনেক বড়, প্রায় মসজিদে এলাকার টপ ঘোষখুর, সুদখুর, অত্যাচারী, ক্ষমতাধর প্রকৃতির লোকেরাই সেই কমিটির সদস্য, আবার সভাপতিও। মসজিদের ভ্যালু এখন অনেক। চুরি যাওয়ার ভয় তো আছেই। অতএব সারাক্ষণ মসজিদ খোলা রাখা যাবে না। তাই এখন প্রায় অনেক মসজিদই নামাজ ব্যাতীত অন্যান্য সময় তালাবদ্ধ থাকে, মসজি টাইম মেনে মুসল্লিদের আসা যাওয়া করতে হবে। গরীবেরা এখন ভয়ে ভয়ে ঢুকে টাইলস কার্পেট কাঁদা হয়ে যায় কিনা। তাদের পরিচিত আল্লাহর ঘর এখন পুরোটাই অচেনা। - কাহিনিটা সম্ভবত সব এলাকার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।

অতছ, মসজিদ আল্লাহর ঘর। সব শ্রেণির বান্দার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। সেখানে তারা নির্বিঘ্নে ইবাদত করবে। মসজিদে আল্লাহর ইবাদত ও দ্বিনি কাজ করতে বাধা দেওয়া জঘন্যতম অপরাধ। আল্লাহ তাআলা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, ‘যে আল্লাহর মসজিদে তাঁর নাম স্মরণ করতে বাধা দেয় এবং তা বিরান করতে প্রয়াসী হয়, তার চেয়ে বড় জালিম আর কে...?’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১১৪)

তাহলে বুঝেন মুসলমানদের ইমানের কি অবস্থা। এই ইমান নিয়ে আমরা বেঁচে আছি। দিন দিন সুন্দরের পুজা করে যাচ্ছি। কিন্তু মসজিদ শুধু মুসলমানের ‘উপাসনালয়’ নয়, বরং তা ইসলামী জীবনব্যবস্থা ও মুসলিম সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র।

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘যে মসজিদের ভিত্তি প্রথম দিন থেকে তাকওয়ার ওপর স্থাপিত, সেটিই আপনার নামাজের জন্য বেশি উপযোগী...। ’ (সুরা : তওবা, আয়াত : ১০৮)

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ জান্নাতেও তার জন্য অনুরূপ ঘর নির্মাণ করবেন। ’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৪৫০)

ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে একটিভ থাকুন

১লা মে দিবস / শ্রমিকের অধিকার আদায়ের দিন

১লা মে দিবসের ছবি ১লা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালন করা হয়। ১লা মে মহান মে দিবস। ১লা মে বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের দিন। ১৮৮৬ স...